ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ প্রধানের দুই বছর বেতন ভাতা বন্ধঃ মানবেতর জীবন যাপন অধ্যক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০৩ ২২:১৬:১৬
জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ  প্রধানের দুই বছর বেতন ভাতা বন্ধঃ মানবেতর জীবন যাপন অধ্যক্ষের জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ প্রধানের দুই বছর বেতন ভাতা বন্ধঃ মানবেতর জীবন যাপন অধ্যক্ষের
বিশেষ প্রতিনিধিঃ


মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশনকলেজ দেশের ঐতিহ্যবাহী একটা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠান। যা মাহি বি চৌধুরী ও স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহলের চক্রান্তে এখন ধ্বংস প্রায়। জানা গেছে, ২০১৬ সালে কলেজটিতে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ ফরহাদ আজিজ অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং কলেজ ও ইন্সটিটিউটশনের ম্যানেজিং কমিটিতে সৎ ও যোগ্যদের স্থান দিতে গিয়ে মাহি বি চৌধুরী ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে দেশে বিগত সরকারের অধীনে বিতর্কিত নির্বাচনে, মাহি বি চৌধুরী মুন্সিগঞ্জের ১ আসনেএমপি নির্বাচিত হলে জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউট, কলেজে ও ম্যানেজিং কমিটিতে সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে নিজস্ব দলীয় কিছু লোক নিয়োগ ও অন্যান্য অঘোষিত পন্থায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেন এবং ২০২৩ সালে কোনরকম নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে কলেজ অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেন।


ফলে কিছু দিন যেতে না যেতেই অযোগ্যদের হাতে বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। রেজাল্ট অবব্যবস্থার কারণে কলেজটি থেকে বিজ্ঞান বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে ধ্বঃস নামে একসময়ের স্বনামধন্য এই কলেজে দেখা যায় হযবরল অবস্থা।এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সুযোগ্য অধ্যক্ষ জনাব, ফরহাদ আজিজকে জাতীয় শিক্ষা বোর্ড ও ডিজির আদেশে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল করেন। কিন্তু পুনর্বহালের মাত্র ২০ দিন যেতে না যেতে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে সারা দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধাণদের হেনস্থার ধারাবাহিকতায় কমিটির মদদপুষ্ট এলাকার কিছু ঊচ্ছৃঙ্খল লোকজন লেলিয়ে দিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে, গাড়ি ভাংচুর করে, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং বলপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর পর মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান এমপি মো: আব্দুল্লাহ সমস্ত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অধ্যক্ষকে স্বীয় কাজে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ চিঠি ইস্যু করেন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও শ্রীনগর উপজেলা ইউএনও হাছিবুর রহমান এর মধ্যস্থতায় অধ্যক্ষ ০১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ কাজে যোগদান করেন এবং বর্তমানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

On the other hand শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজি কলেজ সভাপতি কে অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজকে তার বরখাস্তকালীন সকল বকেয়া বেতন, ভাতা বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কলেজ সভাপতি ইউএনও কোনো এক রহস্যজনক কারণে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার পাওনা সমূহ পরিশোধ করেননি। সূত্র জানায় পার্শ্ববর্তী একই ঘটনার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে তিনি বকেয়া বেতন ভাতা দিয়েছেন কিন্তু কার স্বার্থ রক্ষার জন্য শ্রীনগর থানার ইউএনও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকা স্বত্ত্বেও অধ্যক্ষের বেতন ভাতা আটকে রেখেছেন তা এখনো জানা যায়নি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কি রহস্যজনক কারণে কলেজ সভাপতি তার বকেয়া বেতন ভাতায় স্বাক্ষর দিচ্ছেন না তা তিনি জানেন না। তার দুই মেয়াদের বেতন ভাতা বকেয়া প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন তার বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় স্ত্রী, সন্তান, পরিজন নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেও তার বকেয়া পাওনাদি না পাওয়ায় শিক্ষকরাও এ নিয়ে বাজে কানাঘুষা করছেন।


ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলার ইউএনও জনাব হাসিবুর রহামান এর সাথে আলাপ করলে বিষয়টা হচ্ছে, হবে বলে গতানুগতিক জবাব দেন। অন্যদিকে মিথ্যা অভিযোগে ২০২৩ সালে সাবেক এমপি মাহি বি চৌধুরীর স্ত্রী আশফাহ হক লোপা অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিআইএ তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজ স্বপদে পুনর্বহাল হয়ে এক কোটি পনের লক্ষ টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন, যা মুন্সীগঞ্জ কোর্টে বিচারাধীন আছে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজ, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ থেকে তার যাবতীয় বকেয়া বেতন ভাতা পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ